সম্প্রতি ক্যানসারে মারা গেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কিংবদন্তি কেভিন কিগান। মাঠের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে আবেগের সঙ্গে স্মরণ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেছেন, কিগানের প্রতি তাঁর সব সময়ই গভীর শ্রদ্ধা ছিল।

ট্র্যাক রেডিওকে ফার্গুসন বলেন, “তাঁকে আমি আন্তরিকভাবে সম্মান করি। নিউক্যাসলের কোচ থাকাকালে তাঁর সঙ্গে আমাদের অসংখ্য লড়াই হয়েছে। তবে স্বীকার করতেই হবে, নিউক্যাসলে তিনি অসাধারণ কাজ করেছিলেন। ক্লাবটিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের মধ্যে প্রবল আবেগ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এটাই ছিল তাঁর কৃতিত্ব। সত্যি বলতে, সে সময় নিউক্যাসলের চ্যালেঞ্জ সামলাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে প্রচণ্ড চাপ নিতে হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “কেভিন যে হৃদয় থেকে ফুটবলকে ভালোবাসতেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই ভালোবাসা তিনি সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। নিউক্যাসলে তাঁর সময়টা ছিল আবেগময় ও রোমাঞ্চকর। অনেক মানসম্পন্ন তারকাকে এনে দলও শক্তিশালী করেছিলেন। আমার চোখে সেটিই নিউক্যাসলের ইতিহাসের সেরা দল।”
2 কোচের প্রতিদ্বন্দ্বিতা 1996 সালে চূড়ায় ওঠে। একসময় 12 পয়েন্টে এগিয়ে থাকা নিউক্যাসল শেষ পর্যন্ত সুবিধা হারিয়ে লিগ শিরোপা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হাতে তুলে দেয়। তখন ফার্গুসন ইঙ্গিত করেছিলেন, অন্য দলগুলো ইউনাইটেডের বিপক্ষে সর্বশক্তি দিলেও নিউক্যাসলের বিপক্ষে কিছুটা ছাড় দেয়। এতে ক্ষুব্ধ কিগান বলেছিলেন, তাঁর চোখে ফার্গুসনের ভাবমূর্তি অনেকটাই নষ্ট হয়েছে।
তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কিছুদিন পর ওয়েন্টওয়ার্থ গলফ ক্লাবের কাছের একটি পানশালায় 2 জনের বিরোধ মিটে যায়। সেদিন রাতে তাঁরা পিয়ানোর পাশে বসে দীর্ঘক্ষণ গল্প করে সময় কাটান।
ফার্গুসন বলেন, “তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান গুণ ছিল, তিনি কখনো ক্ষোভ পুষে রাখতেন না। এটি অত্যন্ত বিরল একটি গুণ। সেদিন রাতে আমরা দারুণ সময় কাটিয়েছিলাম। কয়েক সপ্তাহ আগের মাঠের সব বিরোধ মুহূর্তেই পেছনে পড়ে যায়। তাঁর এই গুণটিকে আমি আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করি।”
